ছাদে বা টবে লালশাক চাষ

ছাদে বা টবে লালশাক চাষ

বর্তমানে ছাদে বা টবে লালশাক চাষ অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তাই আজ আমরা আলোচনা করব ছাদে বা টবে লালশাক চাষ পদ্ধতি নিয়ে।সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং শেয়ার করে দিন অন্য ছাদ বাগান প্রেমী বন্ধুদের কাছে।

লাল শাক একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার।হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে লালশাকের এক বিশেষ ভূমিকা আছে।লালশাক ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস। দাঁত ক্ষয়, হাড় ক্ষয় ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে। এমনকি ক্যান্সার দূর করতেও লালশাকের জুড়ি মেলা ভার। রক্তাল্পতা কমাতে সাহায্য করে লাল শাক। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম বেশি লাল শাকের চাষ হয়। সারা বছর ছাদ বাগানে খুব সহজেই লাল শাক চাষ করা যায়। প্রিয় পাঠক,আজ আমরা জানব ছাদে বা টবে লালশাক চাষ পদ্ধতি।

ছাদে চাষযোগ্য লাল শাকের জাত/ ধরনঃ
আলতা পেটি, রক্ত জবা, রক্ত রাংগা, পিংক কুইন আর বারি ১ এর বীজ প্রায় সব জায়গাতে পাওয়া যায়। সব চেয়ে বেশী পাওয়া যায় বারি১। বর্তমানে বারি ১ ই বেশী চাষ হয়।

টবঃ
লাল শাক চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন।কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ কেজি মাটি ধরে এমন টব, ড্রাম বা সিমেন্টের বস্তায় আপনি লাল শাকের চারা লাগাতে পারেন।

টবের মাটি তৈরীঃ
দোআঁশ মাটি ৫০% , বালি ৫ %, শুকনো গোবর বা পাতা পচা সার ৩৫% , এবং ছাই ১০% মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিন। মাটি তৈরির সময় আপনার কিছু বিষয় নিজেকে খেয়াল রাখতে হবে.. যেমন যদি মাটি এঁটেল হয় তবে মিশ্রনে বালির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেবেন। যদি দেখেন মাটি বেলে দোআঁশ টাইপের তবে বালি একেবারেই দেবেন না। এরকম ব্যবহৃত মাটির অবস্থা দেখে আপনাকে মাটি তৈরি করতে হবে। এভাবে মাটি তৈরি করলে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও চলে।

বীজ বপণের উপযুক্ত সময়ঃ
বছরের শুরু দিক লাল শাক চাষের সময়। কিন্তু শীতের সময় লাল শাকের ফলন ভাল হয়।

পরিচর্যাঃ
বীজ বপনের পরে প্রতিদিন ১ বেলা অল্প পরিমানের পানি দিতে হবে। আর মাটি ভেজা থাকলে পানি দেয়ার দরকার নেই। যখন ১ সপ্তাহের মধ্যে চারা বের হবে। ওই সময় গাছের আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।সদ্যোজাত পাতা বের হলে একটি আবরণ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে নয়তো পাখি পাতা গুলো খেয়ে ফেলে। আর অনেক সময় মাটিতে ছত্রাকের আক্রমণের কারনে গাছের গোড়া পচে যায় তাই টবে কিছু ফুটো রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।

তরল সার তৈরির জন্য ২০০ গ্ৰাম সরিষার খৈল অথবা ৫০০ গ্ৰাম পরিমাণ শুকনো গোবর ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই দিন রেখে দিতে হবে। এরপর ঐ তৈরি করা তরল সার টবে প্রয়োগ করুন। প্রয়োগের সময় গাছের গোড়া থেকে অন্তত ৬-৮” ইঞ্চি দূরে তরল সার টি প্রয়োজন মত ঢেলে দিন ।কীটপতঙ্গের আক্রমণে নিম পাতা বেটে তরল করে স্প্রে করতে পারেন। আর পিপড়ার আক্রমণে বেড এর চারপাশে নিম পাতার রস মাটির নিচে দিতে পারেন। গাছের গোড়া থেকে ৫/৭ সেঃ মিঃ দূরে কীটনাশক দিতে হবে। সপ্তাহে ১ বার আগাছা পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়।

ফসল তোলা:
বীজ বপনের এক মাস পর ফসল সংগ্রহ করা যায়। যেসব গাছ অন্য গাছের তুলনায় একটু বড় সেগুলো প্রথমে তুলতে হবে। দুই তিন দিন পর পর এভাবে ফসল সংগ্রহ করা যেতে পারে।

Comments are closed.